ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানালেন গাজার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে হামাসের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। খবর বিবিসির।
‘হামাস বেরিয়ে যাও’, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হামাস’ স্লোগানের ব্যানারে রাস্তায় নামেন ফিলিস্তিনিরা। ‘আমরা না খেয়ে মরতে চাইনা’ স্লোগানে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল শিশুরাও। এসময়, যুদ্ধ বন্ধে গাজার ক্ষমতা থেকে হামাসকে সরে যাওয়ার দাবি জানান তারা। জাবালিয়ার শরণার্থী শিবিরের সামনেও মিছিল করে উপত্যকার বাসিন্দারা।
ক্ষমতা থেকে হামাস সরে গেলেই যদি যুদ্ধ বন্ধ হবে তবে কেন এখনো গদি ছাড়ছে না গোষ্ঠীটি, প্রশ্ন গাজাবাসীর। যদিও ফিলিস্তিনিদের এই বিক্ষোভে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে সম্মত হয়নি হামাস।
গাজাবাসী বলছেন, হামাসকে বলতে চাই আমরা ক্লান্ত। আর যুদ্ধ চাই না। এ যুদ্ধে আমরা পঙ্গু হয়ে গেছি। মানুষের থাকার জায়গা নেই, পরিবারের জন্য খাবার নেই। এ সময় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানও জানান তারা।
অপরদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় ১৭ মাসেও গাজায় বেসামরিকদের উপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ ও আইডিএফের হাতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি না হওয়ায় সাধারণ নাগরিকদের কাছে আস্থা হারাতে বসেছে হামাস।
হামাসকে নিয়ে বিশ্লেষকরা আরও বলেন, তাদের জন্য খুবই স্পর্শকাতর সময় এটি। চারিদিক থেকে চাপ আসছে। তার উপর নিজ দেশের নাগরিকদের বিক্ষোভ কর্মসূচী। ফিলিস্তিনিদের ক্ষোভ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছে। তবে হামাস নিজেদের স্বার্থের আগে জনগণের দিকটা চিন্তা করবে কিনা এটা সময় বলে দিবে।
অপরদিকে, সিভিল পোশাক পরে লাঠি চার্জ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গের অভিযোগও উঠেছে হামাসের বিরুদ্ধে।
এর আগে, প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন ফাত্তাহকে নির্বাচনে হারিয়ে ২০০৭ সাল থেকে গাজাকে এককভাবে শাসন করছে হামাস।